রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: বুড়িগঙ্গা নদীর লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ইসলামবাগ এলাকার তীর থেকে সব প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কেউ সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এজন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ বন্ধে ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট কয়েকটি নির্দেশনা দেন। পরে বাদী পক্ষের এক সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর আদালত লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চরের ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীর থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন।
রবিবার শুনানিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আদালতের নির্দেশনা অনুসারে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে প্রায় ৩০০ টন বর্জ্য অপসারণের কথা জানানো হয়। তবে এলাকার সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
আদালতের নির্দেশনা ছিল, নদীর তীর থেকে সম্পূর্ণ বর্জ্য অপসারণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে সেখানে কেউ প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আদালতকে জানাতে হবে।
এইচআরপিবির পক্ষে আদালতে মামলার শুনানিতে বলা হয়, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ভবিষ্যতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। তাই দাখিল করা প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
শুনানি শেষে আদালত বিআইডব্লিউটিএ ও বিবাদীদের সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিবাদীদের দাখিল করা প্রতিবেদন গ্রহণ না করে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।
বিবাদীরা হলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা জেলা প্রশাসকসহ ১৩ জন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।